মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির কোন কোন আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা আছে ২৬শে।
দেবব্রত দাস, মুর্শিদাবাদ বার্তা -
সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে বিগত ১০ বছরে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়,
সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে বিগত ১০ বছরে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়,
নবাবের শহর এই মুর্শিদাবাদ। এখানেই মীরজাফরের গদ্দারীর কারণে সিরাজের পতন হয়েছিল। আর এখান দিয়েই ভারতে প্রথম অনুপ্রবেশ ঘটেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ব্যবসা করতে এসে ভারতবর্ষে প্রায় ২০০ বছর রাজত্ব করেছিল কিন্তু আমাদের দেশে লুকিয়ে থাকা কিছু গদ্দারের কারণে।
ইতিহাস সাক্ষী, অতীতেও এখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারতে অনুপ্রবেশ হয়েছিল, বর্তমানে অনুপ্রবেশ ঘটছে আর আগামীতেও এখান থেকে অনুপ্রবেশ ঘটবে এটা ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়। এখানকার রক্ত বেইমানির রক্তে রঞ্জিত।
মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গার এপারে গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা জঙ্গিপুর। এই লোকসভার অন্তর্গত নবগ্রাম বিধানসভায় গত একুশে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল এক লক্ষ ভোট পেয়েছিল আর বিজেপির মোহন হালদার তিনি ৬৫ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন। কানাই হালদারের কাছে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে মোহন হালদার পরাজয় স্বীকার করার পরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। এখানে যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করে তিনি তৃণমূলে চলে যান। এক কথায় বলা যায় তিনি বিজেপির ভোটারদের সঙ্গে বেইমানি করেছিলেন।
অপরদিকে ২৩ সালের সাগরদিঘী বিধানসভায় উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটের জয়লাভ করে বায়রন বিশ্বাসের তৃণমূলে যোগদান করেন এটাকে গাদ্দারী বা বেইমানি বলা চলে। এখানকার রক্ত কথা বলে। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের দেওয়া পরিচয় কখনো ভুলতে পারেনা। মুর্শিদাবাদ জেলা ঐতিহাসিক শহরের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ও গাদ্দারির জন্য বিখ্যাত।
এই দুটি বিধানসভা ২৬ সালের নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গত লোকসভা ভোটে জঙ্গিপুর লোকসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,
যে জঙ্গিপুর লোকসভা একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিতি ছিল এখন সেটা তৃণমূলের শক্ত ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জঙ্গিপুর লোকসভায় যদি সঠিকভাবে রাজ্যে SIR হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে এবার এই বিধানসভা ভোটে। জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে চারটি বিধানসভায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিল ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে। এবার কিন্তু এই ৪টি বিধানসভা জোট টক্কর দিতে পারে তৃণমূলকে। নবগ্রাম বিধানসভা, সাগরদিঘী বিধানসভা, খরগ্রাম বিধানসভা, সুতি বিধানসভা এই চারটি বিধানসভায় গতবারের তুলনায় এবার বিজেপির ফল অনেক ভালো হতে যাচ্ছে।
বিশেষ করে সাগরদিঘী বিধানসভায়, বিজেপি যদি সামাজিকভাবে পরিচিত কোন মুখকে এবার প্রার্থী করতে পারে সাগরদিঘী বিধানসভায় তাহলে ফল অনেক ভালো হতে পারে।
কোন শিক্ষক বা ডাক্তারকে যদি এখানে প্রার্থী করা হয়,যাকে মানুষ আগে থেকেই চেনে বা পরিচিত মুখ তিনি তাহলে বিজেপির পর অনেক ভালো হবে।
আমাদের মুর্শিদাবাদ বার্তার সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, সাগরদিঘী বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ। বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৪৫%।
সাগরদিঘী বিধানসভায় যদি তৃণমূল বায়রন বিশ্বাসকে প্রার্থী করে তাহলে তৃণমূল অনেকটা চাপে পড়ে যেতে পারে। যেহেতু বায়রণ বিশ্বাস দলবদল করে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছে তিনি অনেকটাই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন.
জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে বালিয়া হাইস্কুলের শিক্ষক গৌতম কুমার দাস কে এখানকার মানুষ প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। তিনি এলাকায় পরিচিতি মুখ। সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। বিজেপির অনেক কার্যকর্তার সঙ্গে তার ওঠাবসা।
ইনি বা এনার মতো কাউকে বিজেপি সাগরদিঘী বিধানসভা থেকে প্রার্থী করতে পারেন তাহলে তৃণমূলকে জোর টক্কর দিতে পারবে।
অপর দিকে নবগ্রাম বিধানসভায় কানাই চন্দ্র মন্ডলকে তৃণমূল হয়তো প্রার্থী করবে, কিন্তু বিজেপির টিকিটের যিনি দাঁড়িয়েছিলেন সেই মোহন হালদার তো বর্তমানে বিজেপিতে নেই তিনি তৃণমূলে আছেন সেক্ষেত্রে এখানে বিজেপি যদি সর্বসম্মত ভাবে প্রাতি ঠিক করতে পারে তাহলে এখানেও ভালো ফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে এখানে একজন আরএসএস কার্যকর্তার নাম সকলের মুখে মুখে ভাসছে তিনি মানিক সরকার। তবে এখানে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজন সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা দরকার। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের জোড় লড়াই হতে পারে এখানেও।
মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ২২ টি বিধানসভা কেন্দ্র ও তিনটি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে।
২টি বিধানসভা কেন্দ্র দক্ষিণ মালদা লোকসভার অন্তর্গত। সে দুটি হল ফারাক্কা ও শামশেরগঞ্জবিধানসভা ।
মুর্শিদাবাদ লোকসভার ছটি বিধানসভা, জঙ্গিপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভা, বহরমপুর বিধানসভার সাতটি বিধানসভা ও দুটো বিধানসভা দক্ষিণ মালদা লোকসভার অন্তর্গত।
মুর্শিদাবাদ জেলার ভৌগোলিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই জেলাটি আকারে উত্তর-পশ্চিমের দিকে ইঙ্গিত করে একটি আইসোসিল ত্রিভুজের সদৃশ। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের মাঝামাঝি অবস্থিত, বহরমপুর এই জেলার সদর দফতর। এর সাথে ২৩º৪৩’উত্তর এবং ২৪º৫২’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭º৪৯’পূর্ব এবং ৮৮º৪৪’পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত ।
এটির আয়তন সর্বমোট ৫৩১৬.১১ বর্গ কি.মি.। পদ্মা নদী পুরো পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, জেলাটিকে মালদা ও রাজশাহী (বাংলাদেশ) জেলা থেকে পৃথক করেছে। বর্ধমান ও নদিয়া দক্ষিণে এবং বীরভূম এবং পাকুর (ঝাড়খণ্ড) জেলার পশ্চিমে রয়েছে। মূল ভাগীরথী নদীটি পূর্বদিকে ’ এবং পশ্চিমে ‘আরএআরএইচ’ নামে দুটি অংশে জেলাটিকে বিভক্ত করেছে। জেলাটির একটি আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে যার দৈর্ঘ্য ১২৫.৩৫ কিলোমিটার যার মধ্যে ৪২.৩৫ কিলোমিটার জমিতে রয়েছে এবং বাকী ১১ টি ব্লক ধরে নদী প্রবাহিত রয়েছে।
প্রশাসনিকভাবে মুর্শিদাবাদে ২৫৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ২৬ টি ব্লক, ২৮ টি থানা ৫ টি মহকুমা এবং ৮ টি পৌরসভা রয়েছে।
Comments
Post a Comment