SIR ফর্ম বিলি হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে জঙ্গিপুর লোকসভার অনেক বিধানসভার চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

দীপশিখা চ্যাটার্জি,  মুর্শিদাবাদ বার্তা, জঙ্গিপুর - সারাদেশেই SIR কাজ শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে মহাসমারহে এসআইয়ের ফর্ম বিলীর প্রক্রিয়া। জঙ্গিপুর লোকসভায়য় SIR ফর্ম বিলির পর দেখা যাচ্ছে, অনেক ফর্ম নেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জঙ্গিপুর লোকসভার প্রায় প্রত্যেকটি বিধানসভার বিভিন্ন বুথে যা চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিধানসভার একাধিক বুথে একশোর উপরে ভোঁটারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 
 বিশেষ করে লালগোলা, রঘুনাথগঞ্জ,জঙ্গিপুর, সাগরদিঘী,নবগ্রাম  এই বিধানসভা গুলিতে প্রচুর SIR ফর্ম এখনো বিলি করা যায়নি। এক কথায় বলা যেতে পারে ভোটারদের হদিস পাওয়া যায়নি। 
 অথচ ভোটের সময় হলে এই সমস্ত বিধানসভা গুলিতে প্রায় ৮০% থেকে ৯০% ভোটার ভোট দান করে থাকে। 
 ভোটের দিন এই সমস্ত ভোটারদের দেখা যায় ভোট হয়ে গেলে এরা আবার ওপারে চলে যায়। 
 জঙ্গিপুর লোকসভা একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে জঙ্গিপুর তৃণমূলের শক্তঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
 এই লোকসভায় এস আই আর এর ফলে প্রচুর ভোটার এবার বাদ যেতে বসেছে। 
 যার প্রভাব এবার পড়তে পারে সরাসরি বিধানসভা ভোটে। 
 এক একটা বিধানসভা থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার ভোটার বাদ যেতে পারে SIR সঠিক ভাবে হলে। আর এই ভোটের বেশিরভাগটাই পেতো তৃণমূল।  আর এই কারণেই তৃণমূল এস আই আর এর বিরোধিতা করেছিল। 
 তার কারণ তৃণমূলই একমাত্র জানে তাদের শক্তি এবং তাদের দুর্বলতার কথা। 
 গত লোকসভা ভোটে জঙ্গিপুর লোকসভায় তৃণমূল পেয়েছিল ৩৯.৭৫ % ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের খলিলুর রহমান ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়েছিলেন। 
 কংগ্রেস পেয়েছিল ৩১.২৩ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের মোর্তাজা হোসেন তিনি পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ২৭৭৯০ ভোট। 
 আর বিজেপি পেয়েছিল এখানে ২৪.৮৮ শতাংশ ভোট। বিজেপির ধনঞ্জয় ঘোষ পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৪০৮১৪ ভোট। 
 কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জঙ্গিপুর লোকসভায় SIR ফর্ম বিলি করার পরে প্রচুর ফর্ম নেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। BLO তাদের কে খুঁজে পায়নি। বিশেষ করে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে লালগোলা বিধানসভা ও সাগরদিঘী বিধানসভায় SIR ফর্ম এখনো পরে আছে। নেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 
অপর দিকে বিহার নির্বাচন তৃণমূলক প্রচুর চাপে রাখবে। কারন SIR এর প্রভাবে RJD এর ফল খুবই খারাপ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। NDA জোট এখানে ২০০ কাছাকাছি আসন পেতে আমাদের অনুমান। আর যদি সেটা হয় তাহলে তৃণমূল খুবই আতঙ্কে থাকবে বিজেপিকে নিয়ে।
 জঙ্গিপুর লোকসভার বিধানসভা গুলি  ১) সুতি বিধানসভা,২) জঙ্গিপুর বিধানসভা, ৩) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা, ৪) লালগোলা বিধানসভা, ৫) সাগরদিঘী বিধানসভা, ৬) নবগ্রাম বিধানসভা, ৭) খরগ্রাম বিধানসভা। 
 এই বিধানসভা গুলির মধ্যে অন্যতম জঙ্গিপুর বিধানসভা, খরগ্রাম বিধানসভা ও নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি শাসক দল তৃণমূলকে জোর লড়াইতে ফেলে দিতে পারে ২০২৬ এ। তার একমাত্র কারন SIR। সূত্রের খবর  যদি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজেপি তে যোগদান করে তাহলে পুরো মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়েই ত্রিমুখী  লড়াই দেখার জন্য বাংলার মানুষ অপেক্ষা করছে। 
 এছাড়া সাগরদিঘী বিধানসভায় উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয়, তারপর জয়ী বিধায়ক বায়রণ বিশ্বাস তৃণমূলে যোগদান করায় এই বিধানসভায়ও  ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। 
 এক কথায় বলতে গেলে  অধীর রঞ্জন চৌধুরী যদি বিজেপিতে যোগদান করেন এবং সঠিকভাবে মুশিদাবাদ জেলায় SIR হয় তাহলে এই জেলায় বিজেপি অনেক ভালো ফল করতে চলেছে। বিশেষ করে সাগরদিঘী বিধানসভা ও জঙ্গিপুর বিধানসভায়  বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।  
 সাগরদিঘী বিধানসভার সমাজসেবী সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস বলেন, সারা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এক রকম, আর আমাদের সাগরদিঘী রাজনীতি অন্যরকম। 
 গত উপনির্বাচনে  কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস, তৃণমূলে যোগদান করায়  মানুষ তৃণমূল এবং কংগ্রেসের উপর ভীষণভাবে চটেছেন। বিশেষ করে তৃণমূলের উপর প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত এলাকার সাধারণ মানুষরা। সমস্ত মানুষ মিলে কংগ্রেসকে এখানে জিতিয়েছে। আর জিতেই এখানকার বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস তৃণমূলে চলে গেলেন। এটাকে বেইমানি বলা যেতে পারে এখানকার মানুষের সাথে। 
 তবে এবার বিধানসভা ভোটে সাধারণ মানুষ ভেবে চিন্তে ভোট দেবে। তবে সাগরদিঘী বিধানসভায় ২০২৬ এ ত্রিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে এটা বলা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজেপি এখান থেকে এগিয়ে থেকে শুরু করবে ২০২৬ এর লড়াই।
 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাগরদিঘী বিধানসভার  এক তৃণমূল নেতা বলেন, কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসে আমাদের উপর মাতব্বরি ফলাচ্ছেন যেটা আমাদের তৃণমূল কর্মীরা মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। যদি আগামী নির্বাচনে বায়রন বাবুকে প্রার্থী করা হয়  তৃণমূল থেকে তাহলে এখানে তৃণমূলের ফল খুবই খারাপ হতে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজেপিতে যোগদান করবেন, যদি এটা বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে এখানে বিজেপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।



Comments

Popular posts from this blog

জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন বিধানসভার প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুর জেলা অফিসে রাতভোর বিক্ষোভ।

মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির কোন কোন আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা আছে ২৬শে।