লালগোলা বিধানসভায় শেষ মুহূর্তে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীর দৌড়ে কারা কারা।

দীপশিখা ব্যানার্জি, মুর্শিদাবাদ বার্তা, লালগোলা - লালগোলা বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। বিজেপি এখানে সেভাবে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পারেনি। তার কারণেই এই বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু বিজেপি এখানে তৃণমূলকে দারুনভাবে লড়াই দিতে পারে যদি বিজেপি এই কাজগুলো করতে পারে। 
 প্রথমত এখানে বিজেপির ১১০ এর উপরে বুথে  সংগঠন নেই। ৭০টির উপরে কাছাকাছি বুথে পতাকা লাগানোর লোক নেই। এখানে যারা প্রকৃত বিজেপি কর্মী তাদেরকে পদে রাখা হয়নি। যারা পদে আছে তারা মাঠে নেমে সংগঠন করতে পারছে না। এটা যে শুধু লালগোলা বিধানসভার রিপোর্ট সেটা নয় প্রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি বিধানসভা তে একই সমস্যায় ভুগছে বিজেপি।
 বিজেপির ইনডোর মিটিং এ লোকের সংখ্যা বেশি থাকলেও আউটডোর প্রোগ্রামে সেভাবে লোককে পাওয়া যায় না। রাস্তা অবরোধ থানা ঘেরাও বিডিও অফিস ঘেরাও এইসব কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের উৎসাহ চোখে পড়ে না। 
 বিজেপির মোট মিটিং এর ৭০% মিটিং হয় ঘরের মধ্যে। 
 এইভাবে সংগঠন করে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এখানে প্রয়োজন জোরদার  আন্দোলন। 
 তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট তৃণমূলের বিরুদ্ধে হবে। যেটা ২০১১ সালে ভোট সিপিএমের বিরুদ্ধে হয়েছিল তাই তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি  ঘটতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে। 

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের আলী মোহাম্মদ ১ লক্ষ ৭৮৬০ ভোট পেয়েছিলেন। যেটা মোট পোলিং ভোটের ৫৭ শতাংশ।
 কংগ্রেসের আবু হেনা ৪৭ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। যেটা মোট পোলিং ভোটের ২৫ শতাংশ। 
 বিজেপির কল্পনা ঘোষ  তিনি পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৪৬৪ ভোট। যেটা মোট পোলিং ভোটের ১৫ শতাংশ। 
 যেহেতু তৃণমূল একাই ৫৭% ভোট পেয়েছিল ২০২১ সালে। কিন্তু এবার সেটা নাও হতে পারে।  এবার লালগোলা বিধানসভায় চতুর্মুখী লড়াই দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 
 সেক্ষেত্রে বিজেপির এখানে আশানুরূপ ফল হতে পারে। তার জন্য কিছু শর্ত বিজেপিকে মানতে হবে।
 প্রথমেই এখানে একজন প্রয়োজন মহিলা প্রার্থীর। যিনি মাটিতে নেমে সংগঠনটা করতে পারেন বা করেছেন। বা ইতিমধ্যে তিনি পঞ্চায়েতে স্তরে জন প্রতিনিধি হয়েছেন। এমন কাউকেই প্রার্থী করা প্রয়োজন বিজেপি দলের। 
 আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠেছে সেটা হল, এই মুহূর্তে ভোট হয় তাহলে  এবং চতুর্মুখি লড়াই হয় তাহলে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ। SIR এর প্রভাবে তৃণমূলের জয়ের মার্জিন এর অনেকটাই প্রভাব পড়তে পারে। 
 কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে যে তথ্য উঠে আসছে তাতে তৃণমূলের প্রার্থীবতলের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তৃণমূল হয়তো আলি মোহাম্মদকে পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী করতে পারেন। তার কারণ ৭২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন এখান থেকে।
 বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হলেন মৌসুমী হালদার। তিনি পঞ্চায়েত সদস্য। প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। 
 তারপরেই উঠে আসছে কল্পনা ঘোষের নাম। প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। ১৯ শতাংশ কর্মী এবং সমর্থকরা তাকে এখান থেকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। 
 তবে বিজেপির দল এখান থেকে কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার বিষয় তবে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন না করতে পারলে বিজেপি এখানে ভালো ফল করতে পারবে না। 

Comments

Popular posts from this blog

জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন বিধানসভার প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুর জেলা অফিসে রাতভোর বিক্ষোভ।

মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির কোন কোন আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা আছে ২৬শে।

SIR ফর্ম বিলি হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে জঙ্গিপুর লোকসভার অনেক বিধানসভার চিত্র পাল্টে যেতে পারে।